মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় - মধু দিয়ে রূপচর্চা

মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় -  মধু দিয়ে রূপচর্চা

পোস্ট সূচিপত্রঃ মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় - মধু দিয়ে রূপচর্চা

ভূমিকা

এই আর্টিকেলে মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় ,মধু দিয়ে রূপচর্চা,মধু মাখার নিয়ম, মধু ও লেবুর রস মুখে দিলে কি হয়, ছেলেদের মুখে মধু ব্যবহার বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি প্রতিটা পয়েন্ট বিস্তারিত ভাবে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। তাহলে আপনি অনায়াসে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

মধু দিয়ে রূপচর্চা

আমরা জানি, মধু সকল রোগের শেখা মধু শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই যে মধু আমাদের ত্বকের জন্য কতটা উপকারী। মধু আপনাদের ত্বকে ভেতর থেকে ক্লিন করে। মধুর মধ্যে রয়েছে সকল প্রকার ভিটামিন যা আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে ভালো রাখতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।তার পাশাপাশি ত্বকের সকল সমস্যা দূর করতে মধুর জুরি মেলা ভার। আপনারা যদি নিয়ম অনুযায়ী মধু ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনাদের ত্বক ও হবে সুন্দর। তাছাড়া মধু ব্যবহারে আপনার ত্বকে বয়সের কোন সাপ পড়তে দিবে না ।মধুর উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের সবারই মোটামুটি জানা রয়েছে, তাই আপনাদের ত্বক সুন্দর করতে আপনারা কিভাবে মধুর ব্যবহার করতে পারেন তা আজ আমি এই আর্টিফিলটির মাধ্যমে সুন্দরভাবে জানানোর চেষ্টা করব।
মধু দিয়ে বিভিন্ন প্যাক বানিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়াও আপনারা চাইলে প্রতিদিন শুধু মধু ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। মধুর মধ্যে রয়েছে মিনারেল, ভিটামিন, ভিটামিন বি টু,তাছাড়া রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ,লৌহ, জিং ।মধু এন্টিঅক্সিডেন্ট গুণ সমৃদ্ধ মধু এন্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে। যা আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থেকে সমাধান দিতে পারে। যদি আপনাদের ত্বকে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্রণ হয় তাহলে সেই ব্রনের জায়গায় শুধু মধু ব্যবহার করতে পারেন। এতে মধু আপনাদের ত্বকে অ্যান্টিসেপটিক এর কাজ করবে। যা আপনাদের মুখের ব্রণ ভালো করতে সাহায্য করবে। তাছাড়া মধু আপনাদের ত্বকের ব্রণের দাগ দূর করতেও অনেক সাহায্য করে।

আপনারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ধুয়ে হালকা ভাবে মুখ মুছে নিবেন, এবং হালকা ভিজে থাকা অবস্থায় দুই হাতে মধু নিয়ে সমস্ত ত্বকে ভালোভাবে মাসাজ করে ব্যবহার করবেন। এবং এটি দশ থেকে ১৫ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখবেন। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, মধু ব্যবহারের পর ত্বক ধোয়ার সময় ত্বক যেন ভালোভাবে ক্লিন হয়। কারণ মধু আঠালো হয়ে থাকে এর ফলে এটি লোম কূপের গোড়ায় গোড়ায় লেগে যায় এতে আপনাদের লোম কুপের গোড়া ব্যথা হতে পারে। তাই খেয়াল রাখবেন যেন মধু ব্যবহারের পর ত্বক ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার।

মধু মাখার নিয়ম

মধু আমরা বিভিন্ন উপায়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারে। আপনারা হয়তো অনেকেই অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছেন যে মধু কিভাবে ত্বকে ব্যবহার করলে বেশি কাজ করে বা উপকার হয়। তাদের জন্য আজ আমি কয়েকটি মধু ব্যবহার করার নিয়ম সম্পর্কে জানাবো। যারা জানতে চান যে কিভাবে ত্বকে মধু ব্যবহার করলে ত্বকের বেশি উপকার হয় ।তারা অবশ্যই মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি পড়ুন তাহলে আপনারা সুন্দরভাবে বুঝতে পারবেন যে কোন কোন উপায়ে এবং কিভাবে মধু ব্যবহার করলে সব বেশি ভালো ফল পাওয়া যায় এবং ত্বকের বেশি উপকার হয়। চলুন আপনারা জেনে নিন কিভাবে ত্বকে মধু ব্যবহার করবেন।

মধু ব্যবহারের কয়েকটি উপায়ঃ

  • এক চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ এলোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ত্বকে মধু ব্যবহার করলে ত্বক ভিতর থেকে সফট ও নরম থাকবে
  • এক চামচ গরুর দুধ, হাফ চামচ মধু এবং হাফ চামচ বেসন ভালোভাবে মিশিয়ে ৩০ মিনিটের জন্য ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট পর ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ত্বকে মধু ব্যবহার করলে ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার থাকবে।
  • এক চামচ মধু ,হাফ চামচ লেবুর রস এবং এক চামচ এলোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে ত্বকে ২০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। বিশ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন এভাবে ত্বকে মধু ব্যবহার করলে ত্বকের সকল রকমের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করবে এবং ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও ফর্সা হবে।
  • এক চামচ চিনি, এক চামচ মধু এবং এক চামচ অলিভ অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এমনভাবে মেশাতে হবে যেন ক্রিমের মতো ভাব হয়। এরপর আলতো হাতে ত্বকে মাসাজ করে ব্যবহার করুন এতে আপনাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি হবে ও ত্বকের ভেতরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হবে।
  • একটি পাত্রে হাফ চামচ হলুদের গুড়া, এক চামচ মধু এবং এক চামচ গোলাপ জল ভালোভাবে মিশিয়ে ত্বকে15 মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এবং হালকা হাতে মাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে মধু ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের ব্ল্যাকহেড দূর করবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। আপনারা এই প্যাকটি সকালে অথবা রাত্রে ব্যবহার করবেন। রোদ থাকা অবস্থায় ব্যবহার করবেন না এতে ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে।

মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায়

আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সে চায় না তার ত্বক ফর্সা হোক। সবারই মনের আশা থাকে যে তার চেহারা সুন্দর এবং ত্বক ফর্সা হোক। আর ত্বক ফর্সা করতে মধুর জুড়ি মেলা ভার। কারণ মধু আপনাদের ত্বকের সকল সমস্যা দূর করে। মধু আপনাদের ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে ও ফর্সা করতে সাহায্য করে। আপনারা যদি নিয়ম করে মধু দিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন এতে আপনাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ত্বকে যদি ব্রণের সমস্যা থাকে ও ব্রণের দাগ থাকে তাও দূর করবে ইনশাল্লাহ।

আপনারা যেকোনো প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়ে যদি কোন প্যাক ব্যবহার করেন ।তাহলে ধৈর্য ধরে সময় নিয়ে ব্যবহার করবেন। এতে ভালো ফলাফল পাবেন। অনেকে আছে দুইদিন ব্যবহার করে হতাশ হয়ে পড়ে ।কিন্তু প্রাকৃতিক জিনিস ধৈর্য ধরে ব্যবহার করতে হয় ,তাহলেই ভালো ফলাফল পাওয়া যাই। আজ আমি আপনাদের এমন একটি প্যাক বানানোর নিয়ম সম্পর্কে জানাবো যেটি আপনাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করবে ও ত্বককে ফর্সা ও উজ্জ্বল করবে। তাহলে দেখে নিন কিভাবে প্যাকটি তৈরি করতে হয়।
আরো পড়ুনঃ ব্রণের ঘরোয়া চিকিৎসা
প্যাক তৈরিঃ একটি পরিষ্কার পাত্র নিয়ে চুলায় বসিয়ে এক কাপ পানি দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। পানিটি ফুটে গেলে তার মধ্যে দুই চামচ তিষি বিজ দিয়ে ২মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। ২ মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে হালকা কুসুম গরম অবস্থায় একটি সুতির কাপড় দিয়ে তিষির জেলটি ছেকে নিন। এরপর ৫-৬ টা বেলের পাতা শিল-পাটাই ভালোভাবে বেটে নিন। এরপর একটি পরিষ্কার পাত্রে ৩ চামচ তিষির জেল, ২ চামচ বেলের পাতা বাটা, দের চামচ মধু , হাপ চামচ জাফরান, ১ চামচ লেবুর রস, হাফ চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ চামচ কফি পাউডার এবং ১ চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। আপনাকে কমপক্ষে 15 মিনিট ধরে প্যাকটি ফেটিয়ে নিতে হবে।

তারপর প্যাকটি পাঁচ মিনিটের জন্য রেস্টে রেখে দিন। ৫ মিনিট পর প্যাকটি আপনার ত্বকে গলায় হাত বা আপনার যেখানে কালো দাগ বা যেখানে যেখানে ফর্সা করতে চান। সেখানে সেখানে ভালোভাবে মাসাজ করে করে এপ্লাই করুন খুব হালকা হাতে মাসাজ করে ব্যবহার করবেন ট্যাপটি ভালোভাবে ব্যবহার করার পর ৩০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রেখে দিন। ৩০ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক হালকা হাতে মাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে যদি আপনি সপ্তাহে দুই দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনাদের ত্বক ফর্সা হবে এবং ত্বকের ব্রণ এবং ব্রনের দাগ দূর হবে ইনশাল্লাহ। এটি ব্যবহার করে দেখবেন ভালো ফলাফল পাবেন।

মধু ও লেবুর রস মুখে দিলে কি হয়

লেবুতে যে এসিড রয়েছে তা আমাদের ত্বকের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। কিন্তু লেবু ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই এর পরিমাপ জানতে হবে। কেউ যদি অতিরিক্ত পরিমাণে লেবু ব্যবহার করে তাহলে তার মুখ পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ লেবুতে প্রচুর পরিমাণে এসিড রয়েছে তাই আপনারা কিভাবে লেবু এবং মধু পরিমাপ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন, সেই বিষয়ে আমি আপনাদের সুন্দরভাবে জানানোর চেষ্টা করব। লেবু এবং মধু ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী দুটি উপাদান।যা ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করতে ও ত্বকের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

আপনাদের ত্বকে যদি ব্রণের দাগ থাকে ,তাহলে ত্বকের এই দাগ দূর করতে লেবু এবং মধুর জুড়ি মেলা ভার। তাছাড়াও বয়সের ছাপ দূর করতে ও রোদে পোড়া দাগ দূর করতেও ভীষণভাবে সাহায্য করে। তাহলে আপনারা কিভাবে লেবুর রস ও মধু মুখে ব্যবহার করবেন, সেটা আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব তাই দয়া করে অবশ্যই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। এখানে মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায়, মধু দিয়ে রূপচর্চা করার উপায় আরও বিভিন্ন পয়েন্ট রয়েছে যদি আপনি মনে করেন এই পয়েন্টগুলো পড়া আপনার প্রয়োজন তাহলে অবশ্যই এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন আশা করি উপকৃত হবেন।
আরো পড়ুনঃ  ব্রণ দূর করার ঔষধের নাম
আপনারা যদি ত্বকে মধু এবং লেবু ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনাদের অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন যে, লেবুর রস কোন সময় ত্বকে শুধু এপ্লাই করবেন না। যে কোন প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করবেন। আর যেকোনো প্যাক বানানোর সময় এক থেকে দেড় চামচের বেশি লেবু কোন সময় ত্বকে লাগানোর জন্য ব্যবহার করবেন না। এতে আপনাদের মুখে এলার্জি সমস্যা অথবা চামড়ায় দাগ পড়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনারা মধু আর লেবুর রস একসঙ্গে করে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনাদের ত্বকের কোন ক্ষতি হবে না বরং অনেক উপকার হবে। রোদ থেকে এসে আপনারা মধু এবং লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন এতে আপনাদের ত্বকে রোদে পরা দাগ হবে না। এছাড়াও আরো বিভিন্ন উপকার হয় ত্বকে মধু ও লেবুর রস ব্যবহার করলে।

ছেলেদের মুখে মধু ব্যবহার

ছেলেরাও ত্বকে মধু ব্যবহার করতে পারে। আমি উপরে মধু ব্যবহার করার বিভিন্ন নিয়ম সম্পর্কে জানিয়েছি। আপনারা যে কোন একটি নিয়ম ফলো করে ত্বকে মধু ব্যবহার করতে পারেন। ছেলেদের জন্য আলাদা কোন যদি নিয়ম নেই।ছেলেরা যদি ত্বকে মধু ব্যবহার করতে চান তাহলে অবশ্যই আমার এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন তাহলে দেখতে পাবেন যে মধু দিয়ে আমি বিভিন্ন প্যাক বানানোর নিয়ম সম্পর্কে জানিয়েছি। যা আপনাদের অনেক উপকারে আসবে মধু ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্যই সমান কাজ করে। ছেলেরাও অনায়াসে ত্বকে মধু ব্যবহার করতে পারবে এবং ছেলেরাও ত্বক সুন্দর করতে এ সকল প্যাকগুলো ব্যবহার করতে পারবেন কোন সমস্যা হবে না।

শেষ কথা

এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই, এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় ,মধু দিয়ে রূপচর্চা এরকম আরো অনেক নতুন নতুন আর্টিকেল দেখতে চাইলে এই ওয়েবসাইটের সাথে থাকুন। আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়ার সুযোগ করে দিন।
Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url