রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার - এলোভেরা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

প্রিয় পাঠক, আপনি রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার জানার জন্য অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছেন ।কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না। আমি স্টেপ বাই স্টেপ রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার জানানোর চেষ্টা করব। আপনি যদি রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার ও এলোভেরা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় বিস্তারিত আরো অনেক বিষয় জানতে চান তাহলে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন আপনার কাঙ্খিত প্রশ্নের সদুত্তর পেয়ে যাবেন।
রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার

প্রিয় পাঠক, এই আর্টিকেলে শুধু রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার সম্পর্কেই আলোচনা করা হয় নাই এছাড়াও আরো অনেক পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যদি আপনি জানতে চান তাহলে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে পড়ুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার - এলোভেরা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

ভূমিকা

এই আর্টিকেলে রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার, এলোভেরা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়, দাগ দূর করতে এলোভেরা, এলোভেরা দিয়ে হাত পা ফর্সা হওয়ার উপায়,অ্যালোভেরার উপকারিতা বিস্তারিতবে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি প্রতিটা পয়েন্ট বিস্তারিত ভাবে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। তাহলে আপনি অনায়াসে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার

আমরা সবাই জানি এলোভেরা ছেলে নাকি শরীল ভালো থাকে কারণ এলোভেরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ। এলোভেরা খাওয়ার পাশাপাশি রূপচর্চার কাজেও অনেক ব্যবহার হয়। অ্যালোভেরা ত্বকের জন্য অনেক উপকারী একটি উপাদান।আজ আমি আপনাদের রূপচর্চায় এলোভেরার ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করবো। অ্যালোভেরা ব্যবহারে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে যেমন চোখের নিচের কালো দাগ, ত্বকে অয়েল কমাতে, ব্রণের কালো দাগ, ত্বক অনেক চকচকে ও সুন্দর করতে।
  • এলোভেরা দিয়ে আপনারা যেভাবে রূপচর্চা করতে পারেন
  • আপনারা এলোভেরা দিয়ে বিভিন্ন প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
  • আলুর রস, বেসন, গোলাপজল এবং এলোভেরা জেল এক সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট করে রূপচর্চা করতে পারেন।
  • শশা কুচি, লেবুর রস, চন্দন কাঠের গুড়া এবং এলোভেরা জেল একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে রূপচর্চা করতে পারেন।
  • মধু, দু্‌ধ, চালের গুড়া এবং এলোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে রূপচর্চা করতে পারেন।
  • বেসন, লেবুর রস, ভাতের মার এবং অ্যালোভেরা জেল একসঙ্গে মিশিয়ে রূপচর্চা করতে পারে।
  • হালকা কুসুম গরম দুধ, জাফরান এবং এলোভেরা জেল একসঙ্গে মিশিয়ে রূপচর্চা করতে পারে।

এলোভেরা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

আপনারা রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আমি এখন আপনাদের এলোভেরা দিয়ে কিভাবে ত্বক ফর্সা করা যায় সেই বিষয়ে ভালোভাবে জানানোর চেষ্টা করব। অ্যালোভেরা দিয়ে ফর্সা হবার জন্য আমি আপনাদের সাথে একটি প্যাক বানানো শেয়ার করব। যদি আপনারা কফি দিয়ে স্ক্রিন কে ফর্সা করতে চান তাহলে আপনারা এ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। কারণ এলোভেরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন যা আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তার পাশাপাশি ত্বক ও সুন্দর করতে বা ফর্সা করতে সাহায্য করে।

এলোভেরা দিয়ে প্যাক বানানোর পদ্ধতি

প্যাক তৈরির পদ্ধতিঃ আপনি যে কোন একটি পরিষ্কার পাত্রে দুই চামচ এলোভেরা জেল, দের চামচ কফি পাউডার, এক চামচ লেবুর রস, দেড় চামচ আতপ চালের গুড়া, গরুর দুধ তিন চামচ ,জাফরান হাফ চামচ, সকল উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন ভালোভাবে মেশানো হয়ে গেলে ৩০ মিনিট রেস্টে রেখে দিন। ৩০ মিনিট পর আবার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন এমনভাবে মেশাবেন যেন ক্রিমের মতো হয়ে যায়।
মিশ্রন টি ক্রিমের মতো হয়ে গেলে এবার আপনার ত্বক ভালোভাবে ফেসওয়াশ অথবা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন ।এরপর প্যাক টি আপনার ত্বকে ভালোভাবে এপ্লাই করুন। এবং ২০ থেকে ২৫ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। যখন দেখবেন হালকা শুকিয়ে গেছে তখন আস্তে আস্তে মাসাজ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ত্বক ধুয়ে নিন। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করলে, আপনাদের স্কিন আস্তে আস্তে ফর্সা হবে। তাই ধৈর্য ধরে ব্যবহার করতে থাকুন ইনশাল্লাহ ভালো ফলাফল পাবেন।

দাগ দূর করতে এলোভেরা

আমাদের মধ্যে অনেকেরই ব্রণের কারণে এবং বিভিন্ন কারণে তটে কালো দাগ কোন সমস্যা দেখা দেয় এতে আমাদের চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায় তবে অতিরিক্ত দাগ হলে আমরা ভেবে পাইনা কিভাবে এই দাগ ভালো করা যায়। যাদের তৈলাক্ত ত্বক তাদের তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা দেয় অনেকে হয়তো ত্বক সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করে না ত্বকে তেলের কারণে ময়লা জমে যায়। এক্ষেত্রে ত্বক যদি সব সময় পরিষ্কার রাখা যায় তাহলে ত্বকের দাগ পড়ার সমস্যা ঠিক হয়ে যায়।

এলোভেরা দিয়ে দাগ দূর করার উপায়

প্যাক তৈরির নিয়মঃ একটি পরিষ্কার পাত্রে ২ চামচ এলোভেরা জেল, এক চামচ মধু ,দের চামচ চালের গুরা, চার চামচ ছাগলের দুধ অথবা গরুর দুধ হলেও হবে, সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ভালোভাবে মেশানো হয়ে গেলে ১০মিনিটের জন্য ভালোভাবে ঢেকে রেখে দিন, ১০ মিনিট পর মিশ্রণটিকে আবার ভালোভাবে মেশান। ভালোভাবে মেশানো হয়ে গেলে,ত্বকে ভালোভাবে লাগান।
১৫ থেকে ২০ মিনিট পর যখন হালকা শুকিয়ে যাবে, তখন ভালোভাবে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।এভাবে আপনারা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করেন তাহলে, দেখবেন আস্তে আস্তে আপনাদের ত্বকের কালো দাগ এবং বলিরেখা দূর হয়ে যাবে।তাই আপনারা নিয়ম অনুসারে, প্যাকটি ধৈর্য ধরে ব্যবহার করুন এতে ভালো ফলাফল আশা করা যায়।

এলোভেরা দিয়ে হাত পা ফর্সা হওয়ার উপায়

অ্যালোভেরা দিয়ে আপনারা যেভাবে হাত পা ফর্সা করবেন। এলোভেরা জেল ত্বকের পাশাপাশি হাত পায়ে ব্যবহার করলে হাত পাও অনেক ফর্সা হয়। অনেকের দেখা যায় ত্বক ফর্সা কিন্তু হাত পা কালো এক্ষেত্রে আপনারা অ্যালোভেরা দিয়ে প্যাক তৈরি করে।হাত পায়ে লাগানোর মাধ্যমে হাত-পা ত্বকের মত ফর্সা করতে পারেন। তাই আজকে আমি আপনাদের এলোভেরা জেল দিয়ে প্যাক তৈরি করে দেখাবো এই প্যাক ব্যবহার করলে আস্তে আস্তে আপনাদের হাত-পায়ের কালো দাগ এবং হাত-পা ফর্সা হয়ে যাবে আশা করি।

প্যাক তৈরির নিয়মঃ হাফ কাপ লেবুর রস, এক চামচ মধু, এক চামচ চালের গুড়া, এক চামচ বেসন, এক চামচ মধু, দুই চামচ গরুর দুধ, তিন চামচ এলোভেরা জেল, একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে চব্বিশ ঘন্টার জন্য একটি গরম জায়গায় রেখে দিন।উপকরণ গুলো যখন হালকা নষ্ট নষ্ট ভাব হবে তখন ভালোভাবে পেস্ট করে নিন। এরপর হাত পায়ে লাগিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে দিন।এবং মিশ্রণটি যখন হালকা শুকিয়ে আসবে তখন ঠান্ডা পানি দিয়ে আস্তে আস্তে মাসাস করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে আপনারা সপ্তাহে দুইদিন ব্যবহার করবেন দেখবেন কিছুদিন ব্যবহার করলে আপনাদের হাত পা ফর্সা হয়ে যাবে।

অ্যালোভেরার উপকারিতা 

অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণ উপকারিতা রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। এলোভেরা তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান। নিয়মিত অ্যালোভেরা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাই। যাদের হজম ক্ষমতা কম কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা পেট ফাঁপা বদহজম ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি। অ্যালোভেরা খাওয়া মাধ্যমে খুব সহজে ওজন কমানো যায়। যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত অ্যালোভেরা খাবেন।
এলোভেরা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অনেক বেশি উপকারী।অ্যালোভেরা ত্বকের যত্নেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।ত্বকে এলোভেরা ব্যবহারে ত্বক অনেক সুন্দর হয়ে ওঠে। চুল সুন্দর করতে অ্যালোভেরার উপকারিতা অনেক।কারণ এলোভেরাতে রয়েছে ভিটামিন সি ,ভিটামিন ই, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা শুষ্ক ত্বকে ময়শ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে যা আমাদের ত্বক এবং চুলের গোড়ার জন্য অনেক উপকারী।

শেষ কথা

এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই, এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার এরকম আরো অনেক নতুন নতুন আর্টিকেল দেখতে চাইলে এই ওয়েবসাইটের সাথে থাকুন। আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়ার সুযোগ করে দিন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url