কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

 

প্রিয় পাঠক,আপনি কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা জানার জন্য অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছেন ।কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না। আমি স্টেপ বাই স্টেপ কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা জানানোর চেষ্টা করব। আপনি যদি কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা ও কাঁচা হলুদ খেলে কি ফর্সা হয়, বিস্তারিত আরো অনেক বিষয় জানতে চান তাহলে আর্টিকেলটি  শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন আপনার কাঙ্খিত প্রশ্নের  সদুত্তর পেয়ে যাবেন।
কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

প্রিয় পাঠক, এই আর্টিকেলে শুধু কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা  সম্পর্কেই আলোচনা করা হয় নাই এছাড়াও আরো অনেক পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যদি আপনি জানতে চান তাহলে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে পড়ুন ।

পোস্ট সূচীপত্রঃ কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

ভূমিকা

আমরা অনেকেই হলুদের গুনাগুন সম্পর্কে জানতে চাই।কিন্তু কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে ভালো কিছু জানতে পারি না। আমাদের আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা  সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। যেমন,হলুদ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, কাঁচা হলুদ খাওয়ার নিয়ম, কাঁচা হলুদ কিভাবে মুখে ব্যবহার করতে হয়। এবং হলুদ সম্পর্কে আরো অনেক বিস্তারিত দেওয়া আছে যা আপনারা এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে জানতে পারবেন।

কাঁচা হলুদের অপকারিতা

কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা দুটোই রয়েছে। কারণ যেকোনো জিনিস অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে তার উপকারের চাইতে অপকারই বেশি হয়। হলুদে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয় না। তবে অনেকের, মাথা ঘোড়া, পেট খারাপ ও বমি বমি ভাব বা ডায়রিয়া ও হতে পারে। বেশি পরিমাণ হলুদ গ্রহণ করলে হার্টের রোগীর জন্য বিপদজনক হয়ে যেতে পারে।

যারা রক্তপাত জনিত রোগে আক্রান্ত সেই সকল ব্যক্তিদের ক্ষত এবং রক্তপাত বেড়ে যেতে পারে। কাঁচা হলুদ খেলে যাদের পিত্তথলির সমস্যা তাদের জন্য বিপদজনক। আর যদি পিত্ত থলিতে পাথর বা ব্যথা থাকে তাহলে এই কাঁচা হলুদ গ্রহণ করা উচিত নয়। এতে আরো বিপদ বেড়ে যেতে পারে, তাই হলুদের যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমন অপকারিতা রয়েছে।

কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম আমরা কাঁচা হলুদ বিভিন্নভাবে মুখে ব্যবহার করতে পারি। কারণ কাঁচা হলুদের প্রচুর পরিমাণ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ,অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি ভাইরাল ইত্যাদি অনেক গুণ রয়েছে। তাই হলুদে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য আয়ুর্বেদিক ভাবে এর ব্যবহার করা হয়।
তাই মুখে কাঁচা হলুদ ব্যবহার করলে আমাদের মুখের অনেক উপকার হয়ে থাকে। যেমন, আমাদের মুখ ফর্সা করতে হলুদের গুনাগুন সবচেয়ে বেশি। আমরা যেভাবে হলুদ দিয়ে মুখ ফর্সা করব, এক চামচ কাঁচা হলুদ বা গুড়া হলুদ ব্যবহার করতে পারবেন। এর সঙ্গে দুই চামচ গোলাপজল ও এক চামচ বেসন এক সঙ্গে ভালোভাবে পেস্ট করে, সমস্ত মুখে লাগাতে হবে।

মুখে লাগানোর আধা ঘন্টা পর শুকিয়ে এলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। এবং এই প্যাকটি ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। আবার কাঁচা হলুদ রোদের সময় ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে মুখ ফর্সার বদলে কালো হয়ে যাবে। এই পেজটি সবচাইতে ভালো রাতে ব্যবহার করা। এতে ফলাফল ভালো হয়।

কাঁচা হলুদ খাওয়ার নিয়ম

আমরা জানি হলুদের প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে, আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী কিন্তু আমরা এর খাওয়ার নিয়ম জানি না এর ফলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়। আমরা যেভাবে কাঁচা হলুদ সেবন করতে পারি, আমাদের প্রতিদিন ২৫০ মিলিগ্রাম হলুদ খেতে হবে। এর চেয়ে বেশি খাওয়া শরীরের জন্য ভালো হবে না। সকালে ও রাতে দুই বেলাই হলুদ খাওয়া যায়।

আমরা যেভাবে কাঁচা হলুদ খেতে পারি, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক কাপ গরম দুধের সঙ্গে দুই থেকে তিন চামচ হলুদের গুড়া মিশিয়ে মিশ্রণটিকে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এরপর খেতে হবে, এটি খাওয়ার আধা ঘন্টা পর সকালের খাবার খেতে হবে, এর আগে খাবার না খাওয়াই ভালো।কারণ এর উপকার কম হতে পারে।

আমরা রাতে ঘুমাতে যাবার আগে একই নিয়মে এই মিশ্রণটি খেতে পারি। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে ২৫০ মিলিগ্রাম এর বেশি যেন না হয়ে যায়। তাহলে কিন্তু শরীরে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যে কোন জিনিস নিয়ম অনুপাতে খাওয়াই ভালো। আমাদের শরীরের উপকার হয়।

নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের উপকারিতা

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের উপকারিতা অনেক কারণ, আমরা নিম পাতা ও হলুদ বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করতে পারে। নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ আমরা যেভাবে ব্যবহার করতে পারি। যাদের গায়ে চুলকানি রোগ রয়েছে, যারা নিয়মিত কাঁচা হলুদ ও নিমপাতা একসঙ্গে পেস্ট করে ব্যবহার করলে চুলকানি রোগ কমে যায়। এবং যাদের গায়ে বসন্ত বের হয়, তারা এই নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহার করতে পারবে।

সকালে খালি পেটে আধা কাপ নিম পাতার রস ও এক চামচ কাঁচা হলুদ বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, এবং রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। নিম পাতা হলুদে আরও অনেক উপকার রয়েছে।
রূপচর্চার কাজে কাঁচা হলুদ ও নিম পাতার উপকারিতা জেনে নিন। আমরা রূপচর্চার কাজে এই কাঁচা হলুদ ও নিম পাতা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকি। নিম পাতা ও হলুদে আমাদের গায়ের রং ফর্সা করতে সাহায্য করে ও মুখের ব্রণ দূর করতেও সাহায্য করে। এবং যদি উকুন হয় নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহার করলে উকুন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মুখে কাঁচা হলুদের উপকারিতা

মুখে কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা দুইটাই রয়েছে। কারণ অনেকের কাঁচা হলদে এলার্জির সমস্যা হয় এ ক্ষেত্রে কাঁচা হলুদব্যবহার করা যাবে না।মুখে কাঁচা হলুদ আমরা বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করতে পারি। শুধু কাঁচা হলুদ ও ব্যবহার করতে পারি অথবা যে কোন প্যাক বানিয়েও ব্যবহার করতে পারি। হলুদ আমাদের ত্বক কে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। কারণ হলুদে জীবাণুমুক্ত করে এবং এতে রয়েছে জীবাণুনাশক ক্ষমতা। 

তাই এই হলুদ ব্যবহার করলে আমাদের মুখের অনেক উপকার হয়ে থাকে।মুখে কাঁচা হলুদ ব্যবহার করলে মুখের কালো দাগ ও ব্রণ ভালো হয়। হলুদের রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিসেপটিক ক্ষমতা। যা আমাদের মুখের জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে । তে আমাদের মুখের ব্রণ বের হতে পারেনা। যারা নিয়মিত হলুদ ব্যবহার করেন তারা জানতে পারবে এর উপকারিতা কেমন। কিন্তু হলুদ প্রতিদিন ব্যবহার করা যাবে না সপ্তাহে দুই তিন দিন ব্যবহার করতে পারবেন। এতে ত্বক ভালো থাকবে।

কাঁচা হলুদ খেলে কি ফর্সা হয়

হলুদ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী উপাদান, হলুদ শুধু খাবারে ব্যবহার করিনা, হলুদ আমাদের ত্বকের জন্যও অনেক উপযোগী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টি ব্যাকটেরিয়া বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ এই হলুদ। যা আমাদের ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে, ব্রণ ভালো করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে।
আমরা কাঁচা হলুদ যেভাবে খেতে পারি, ২ ইঞ্চি হলুদ ভালোভাবে ছিলে পরিষ্কার করে নিতে হবে, এরপর দুধের সঙ্গে ১৫ মিনিট ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর হলুদ টি তুলে ফেলতে হবে এবং সেই ফুটানো দুধ পান করতে হবে। এতে আমাদের ত্বক ভিতর থেকে ফর্সা হবে।

এক কাপ ফুটানো গরম দুধের সঙ্গে তিন চামচ হলুদ গুঁড়া বা কাঁচা হলুদ নিতে পারেন, এরপর ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। হালকা কুসুম গরম থাকা অবস্থায় এই দুধ টি পান করতে হবে। এতে আমাদের শরীরের ব্যথা বেদনা দূর করবে, জ্বর জ্বর ভাব দূর করবে, হাত পায়ে বা হাঁটুতে ব্যাথা দূর করতে সাহায্য করে। এবং আমাদের ত্বক ও ফর্সা করতে সাহায্য করে।

মন্তব্য

এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই, এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা এরকম আরো অনেক নতুন নতুন আর্টিকেল দেখতে চাইলে এই ওয়েবসাইটের সাথে থাকুন। আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়ার সুযোগ করে দিন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url