ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা - কোষ্ঠকাঠিন্যে ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক, আপনি ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা জানার জন্য অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছেন কিন্তু কোথাও সদুত্তরখুঁজে পাচ্ছেন না । আমি স্টেপ বাই স্টেপ ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা জানানোর চেষ্টা করব। যদি আপনি ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা ও কোষ্ঠকাঠিন্যে ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম জানতে চান তাহলে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করুন পড়তে থাকুন আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

প্রিয় পাঠক, ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে এ আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে, এ আর্টিকেলটি কিছু পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হয়েছে। যা আপনাদের পড়তে অনেক সুবিধা হবে। তাই দয়া করে নিচের পয়েন্ট গুলো গুরুত্ব সহকারে পড়তে থাকুন। তাহলে ইসবগুলের ভুষি সম্পর্কে অনেক বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করতে থাকুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা - কোষ্ঠকাঠিন্য ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম

ভূমিকা

এই আর্টিকেলে ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা, ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম,খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম , রাতে ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার উপকারিতা,ইসবগুলের ক্ষতিকর দিক  বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি প্রতিটা পয়েন্ট বিস্তারিত ভাবে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। তাহলে আপনি অনায়াসে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। । ইসবগুলের ভুষি খেয়ে আমরা যে অনেক ধরনের উপকারিতা লাভ করে থাকি থাকি। ইসবগুলের ভুষি খেলে পেট ঠান্ডা থাকে, গ্যাস্টিকের সমস্যা দূর হয়, হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, ইসবগুলের ভুসিতে সবচাইতে বেশি উপকার হয়ে থাকে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা,তাদের জন্য ইসবগুলের ভুষি এক মহা ওষুধ যা নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়।
কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য শরীরে অনেক ধরনের রোগ জীবাণু বাসা  বাধতে থাকে থাকে  । আবার বিশেষ করে যাদের পায়ে হাতে জ্বালাপোড়া করতে থাকে এবং প্রসবের পর জ্বালাপোড়া করে তারা নিয়মিত ইসবগুলের ভুষি খেতে পারেন।ইসবগুলের ভুষির শরবত এ সকল বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। তাই আমাদের ভালো উপকারিতা পেতে নিয়মিত প্রতিদিন ইসবগুলের ভুষি খাওয়া দরকার। কারণ এখনকার মানুষদের এ সকল সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম

ইসবগুলের ভুষি আমরা অনেকভাবেই খেতে পারি, কখনো শরবত করে, রমজান মাসে ইসবগুলের ভুষির শরবত  আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে  । তাই আমরা এই ইসবগুলের ভুষি দিয়ে শরবত বানিয়ে খেলে আমাদের শরীরের ক্লান্তি কেটে যায়। শরবত বানানোর নিয়ম, এক গ্লাস শরবতের জন্য টেস্ট অনুযায়ী চিনি নিবেন এক টুকরো লেবুর রস ও এক চামচ ইসবগুলের ভুষি আধাঘন্টা আগে ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে দিবেন।

এবং হালকা ঠান্ডা হলে তা ইফতারের সময় ভালোভাবে মিশিয়ে খেতে পারবেন। এতে আপনাদের শরীরের ক্লান্তি দূর হবে ও অনেক তৃপ্তি অনুভব করবেন। যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য চিনি ছাড়া শরবত করার নিয়ম, এক গ্লাস পানির মধ্যে এক চামচ ইসবগুলের ভুষি এক টুকরো লেবু এবং এক চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিবেন।

এরপর সকালে খালি পেটে খেয়ে নিবেন,সকালে খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে উপকারিতা বেশি হয়। অনেকে ইসবগুলের ভুষির বিভিন্ন ডেজার্ট বানিয়ে থাকে যেমন ,হালুয়া, পুডিং, ইত্যাদি আরো বিভিন্ন খাবার। কারণ ইসবগুলের ভুষি যেভাবেই খান আপনাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস ইসবগুলের ভুষির শরবত খেয়ে নিবেন।

খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয়

ইসবগুলের ভুষি সকালে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে খেলে আপনাদের শরীরের   ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। এবং যাদের পায়খানা কষা ঠিকমতো পায়খানা হতে চাই না  তারা নিয়মিত সকালে খালি পেটে এই ইসবগুলের ভুষির শরবত খাবেন।আপনাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের যে সমস্যা তা দূর হয়ে যাবে।অনেকে ওষুধ খেয়েও এই কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো করতে পারেন না।

তারা নিয়মিত সকালে উঠে এক গ্লাস ইসবগুলের ভুসি খেয়ে নিবেন তাহলে দেখবেন আপনাদের এই সমস্যা আস্তে আস্তে দূর হয়ে যাবে। আর আপনারা যারা নিয়মিত ইসবগুলের ভুষি খাবেন তারা কমপক্ষে সারাদিনে ৩ লিটার পানি খাওয়ার চেষ্টা করবেন আর পাঁচ লিটার খেতে পারলে বেশি ভালো হয়।
কারণ ইসবগুলের ভুষি খাবার পর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না খাওয়ার ফলে গলনালী অথবা অন্তের মুখ আটকে যেতে পারে। এতে পরিপাকতন্ত্রে ঠিকমত খাবার চলাচল করতে পারে না। বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আপনারা ইসবগুলের ভুষির শরবত খাওয়ার পাশাপাশি পরিমাণ মতো পানিও পান করবেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম

ইসবগুলের ভুষি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য আমরা কিভাবে খাব তা জেনে নিই । এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা চামচ  ইসবগুলের ভুষি এবং এক চা চামচ চামচ মধু একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে খেয়ে নিতে হবে । এটা কোষ্ঠকাঠিন্য জন্য অনেক উপকারী পানীয় হয়ে থাকে। যা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো হয় না আরো বিভিন্ন সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যায়। যেমন, বদহজম, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

যাদের রাতে ঘুম হয় না,এবং রাতে ঘুমালে পেটে ব্যথা অথবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়।তারা রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক গ্লাস ইসবগুলের ভুষির শরবত খেয়ে ঘুমাবেন।এতে আপনাদের এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে এবং রাতে ঘুম ভালো হবে।ইসবগুলের ভুষিতে যে ভিটামিন রয়েছে,তা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।আমরা ইসবগুলের ভুষি হালুয়া বানিয়ে খেতে পারি এতে ও কোষ্ঠকাঠিন্যর  জন্য অনেক উপকারিতা হয়ে থাকে।

রাতে ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার উপকারিতা

রাতে ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম, সারাদিন আপনারা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন।কারণ ইসবগুলের ভুষি খেলে অধিক পরিমাণে পানি খেতে হয়। রাতে ঘুমাতে যাবার আধাঘন্টা আগে কুসুম গরম দুধের সঙ্গে এক চামচ ইসবগুলের ভুষি ও হাফ চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে রেখে দিন এবং আধা ঘন্টা পর পান করুন।

এবং 10 মিনিট হাঁটাহাঁটি করে ঘুমিয়ে পড়ুন এতে আপনাদের রাতের ঘুম ভালো হবে। এবং যারা দুধ খেতে পারেন না,তারা এক গ্লাস পানির সঙ্গে এক চামচ ইসবগুলের ভুষি এবং হাফ চামচ মধু মিশিয়ে আধা ঘন্টা পর পান করবেন। আপনাদের পেট ঠান্ডা থাকবে এবং দ্রুত ঘুম চলে আসবে।তাই আপনারা রাতে ঘুমানোর আগে ইসবগুলের ভুষি খেয়ে নিতে পারেন।

ইসবগুলের ক্ষতিকর দিক

ইসবগুলের ভুষি খেলে যেমন উপকারিতা রয়েছে, এবং তার অপকারিতা রয়েছে। কিন্তু এটা ঠিক মত খেলে কোন ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। যেমন, যাদের ওজন কম তারা যদি অনেক দিন ধরে এই সবগুলার ভুসি খাই তাহলে ওজন কমে যেতে পারে। এবং তাদের অন্ত্রে কোন রোগ বা সমস্যা থাকে তাদের জন্য এই ইসবগুলের ভুষি না খাওয়াই ভালো হবে। অনেকের পাকস্থলীর সমস্যা রয়েছে।
তাদের ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে টানটান ভাব অনুভব হতে পারে। তাদের জন্য ইসবগুলের ভুষি না খাওয়াই ভালো। এসব ক্ষেত্রে কোন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এটা পান করা দরকার। এতে ক্ষতির কোন সম্ভাবনা থাকে না। যে কোন জিনিসের যেমন ভাল দিক রয়েছে তেমন ক্ষতি করো দিক রয়েছে। ইসবগুলের ভুষি খেলে উপকারিতা বেশি হয় অপকারিতার চেয়ে। তাই ভালোভাবে জানার পর এটা খাওয়া উচিত।

মন্তব্য

এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই, এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা এরকম আরো অনেক নতুন নতুন আর্টিকেল দেখতে চাইলে এই ওয়েবসাইটের সাথে থাকুন। আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়ার সুযোগ করে দিন।                                                                               

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url