বিটরুট দিয়ে রূপচর্চা - বিটরুট খাওয়ার নিয়ম


বিটরুট দিয়ে রূপচর্চা - বিটরুট খাওয়ার নিয়ম

পোস্ট সূচীপত্রঃ বিটরুট দিয়ে রূপচর্চা - বিটরুট খাওয়ার নিয়ম

ভূমিকা

এই আর্টিকেলে বিটরুট দিয়ে রূপচর্চা, বিটরুট সংগ্রহ করে সারা বছর কিভাবে ত্বকে ব্যবহার করবেন, বিটরুট খাওয়ার নিয়ম, ব্রণ দূর করতে বিটরুটের ব্যবহার বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি প্রতিটা পয়েন্ট বিস্তারিত ভাবে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। তাহলে আপনি অনায়াসে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

বিটরুট দিয়ে রূপচর্চা

এখনো অনেক মানুষ বিটরুট সম্পর্কে জানেনা।আর যারা জানে তারা বিটরুট খাবার নিয়ম জানতে পারে । কিন্তু রূপচর্চার কাজে বিটরুট যে ব্যবহার হয় এটা অনেকেরই অজানা। সব থেকে শীতকালে বেশি পাওয়া যায় আর এটি আমাদের ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী কারণ বিদ্যুটে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ যা আমাদের শরীরের পাশাপাশি ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী। বিদ্যুটের মধ্যে যে উপকারী উপাদান গুলো রয়েছে তা আমাদের ত্বক সুন্দর রাখতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
আজ আমি আপনাদের সঙ্গে বিটরুট দিয়ে কিভাবে রূপচর্চা করবেন কোন ত্বকের জন্য কিভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং বিটরুট ব্যবহারের সঠিক নিয়ম আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব ।তাই আপনারা এ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন তাহলে বিটরুট দিয়ে রূপচর্চা কিভাবে করতে হয়, সেটা খুব ভালোভাবে জানতে পারবেন।বিটরুটে ত্বক ভিতর থেকে সুন্দর করতে এবং ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিটরুট দেখতে কিছুটা লাল পেয়ারার মত কিন্তু এর ভিতরের কালার রক্তের মত লাল। আর যাদের শরীরে রক্তের প্রয়োজন তারা নিয়মিত বিটরুট খেলে রক্তের অভাব পূরণ হবে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিটরুটের ব্যবহার

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিটরুট অনেক কাজের একটি ফল। একটি পাত্রে ২ চামচ বিটরুটের রস, হাফ চামচ বেসন, হাফ চামচ লেবুর রস এবং এক চামচ মধু দিয়ে একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। একসঙ্গে ভালোভাবে মেশানো হয়ে গেলে। পাঁচ মিনিটের জন্য নরমাল ফ্রিজে রেখে দিন। ৫ মিনিট পর ত্বকে ভালোভাবে মাসাজ করে ব্যবহার করুন। এবং ২৫ মিনিটের জন্য তোকে লাগিয়ে রাখুন ২৫ মিনিট পর ত্বক ভালোভাবে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে আপনারা সপ্তাহে চার দিন ব্যবহার করবেন আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা আস্তে আস্তে বাড়বে শুরু করবে। তাই আপনারা নিয়ম অনুযায়ী ধৈর্যের সহিত ব্যবহার করুন।

ত্বকের কালো দাগ দূর করতে বিটরুটের ব্যবহার

আপনারা বাসায় অনেক কিছু ব্যবহারের পরেও ত্বকের কালো দাগ এবং মেছতার দাগ তুলতে পারছেন না আজ আমি আপনাদের ত্বকের কালো দাগ দূর করার জন্য একটি প্যাক বানানোর নিয়ম জানাবো। ২ চামচ টক দই, দুই চামচ বিটরুট পাউডার, হাফ চামচ জাফরান এবং এক চামচ ময়দা সকল উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ভালোভাবে মেশানো হয়ে গেলে ত্বকে ভালোভাবে এপ্লাই করুন ,এবং 15 মিনিটের জন্য ত্বকে লাগিয়ে রাখুন।১৫ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক হালকা হাতে ঘষে ঘষে মাসাজ করে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। এভাবে আপনারা ব্যবহার করলে ত্বকের কালো দাগ হয়ে যাবে।

ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে বিটরুটের ব্যবহার

একটি কাপে হাফ কাপ হালকা কুসুম গরুর দুধ, হাফ চামচ জাফরান, দুই চামচ বিট রুট পাউডার আধা ঘন্টার জন্য ভিজিয়ে রাখুন। আধাঘন্টা বা তিরিশ মিনিট পর মিশ্রণটি ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন বা মিশিয়ে নিন। মেশাতে মেশাতে দেখবেন যে ক্রিমের মতো হয়ে এসেছে তখন দুইটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর ভেতরের তেল বের করে সেই মিশ্রনের মধ্যে মিশিয়ে দিন। ভালোভাবে মেশানো হয়ে গেলে সমস্ত ত্বকে ভালোভাবে এপ্লাই করুন, এবার 20 মিনিটের জন্য ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এভাবে আপনারা সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করুন দেখবেন আপনার ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার হবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য বিটরুট এর ব্যবহার

শুষ্ক ত্বকের জন্য আপনারা বিটরুট পাউডার বা বিটরুট ফলের রস ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন এতে ত্বকের রুক্ষতা বা শুষ্ক ভাব দূর হয়ে যায়। ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর করতে আপনারা বিটরুট যেভাবে ব্যবহার করবেন। এক চামচ অলিভ অয়েল, এক চামচ গোলাপজল, হাপ চামচ মধু এবং এক চামচ বিটরুট পাউডার একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। পানি ব্যবহার করবেন না যদি একটু ঘন লাগে তাহলে একটু গোলাপ জল মিশিয়ে নেবেন। এরপর ভালোভাবে ত্বকে লাগিয়ে নিন ৩০ মিনিটের জন্য ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট পর হালকা হাতে মাসাজ করে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ব্যবহার করে দেখবেন আপনার ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর হবে এবং ত্বক অনেক সফট এবং নরম হবে।

ব্রণ দূর করতে বিটরুটের ব্যবহার

ব্রণ দূর করার জন্য আপনারা যেভাবে খুব সহজে বিটরু টের ব্যবহার করতে পারেন। সামান্য কিছু উপকরণ মিশিয়ে আপনি আপনার ত্বকের ব্রণ খুব তাড়াতাড়ি ভালো করতে পারবেন। এক চামচ বিটরুট পাউডার, হাফ চামচ মধু্‌, 2 চামচ বেলের পাতা বাটা সকল উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ৩০ মিনিটের জন্য ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। এবং ৩০ মিনিট পর ত্বক ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন,এভাবে আপনারা বেশি না দুই সপ্তাহ ব্যবহার করে দেখেন।আপনাদের মুখের ব্রণ তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যাবে। এই প্যাকটি আপনারা ব্যবহার করে অবশ্যই ভালো ফলাফল পাবেন ইনশাল্লাহ। তাই একটু ধৈর্যের সহিত ব্যবহার করে দেখুন আপনার ত্বকের সব ব্রণ ভালো হয়ে যাবে।

বিটরুট দিয়ে ফেসিয়াল করার নিয়ম

একটি পরিষ্কার পাত্রে, চার চামচ বিটরুট এর রস, দুই চামচ কনফ্লাওয়ার, হাফ চামচ মধু এবং ফুটানো গরম দুধ হাফ কাপ এবং সকল উপকরণ গরম দুধের মধ্যে ভালোভাবে মিশাতে থাকুন ভালোভাবে মেশাতে থাকলে দেখবেন আস্তে আস্তে মিশ্রণটি অনেক ঘন এবং ক্রিমের মতো হয়ে এসেছে । আর আপনারা দেখবেন এটা একদম ফেসিয়াল প্যাক এর মত হয়ে গেছে। আপনারা বেশি করে তৈরি করে নরমাল ফ্রিজে রেখে দিয়ে এক সপ্তাহ ধরে ব্যবহার করতে পারবেন। এটা আপনারা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করবেন দেখবেন আপনার বাহিরে আর ফেসিয়াল করতে যাওয়া প্রয়োজন হবে না।

বিটরুট সংগ্রহ করে সারা বছর কিভাবে ত্বকে ব্যবহার করবেন

বিটরুট আপনারা খুব সহজে সারা বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই ফলটি আপনারা শীতকালে বেশি পাবেন এবং দামও অনেক কম থাকে তাই শীতকালে আপনারা এই ফলটি সংগ্রহক্ষণ করে সারা বছর ত্বকে এপ্লাই করতে পারেন। আর আপনারা এই ফলটি কিভাবে সংরক্ষণ করে সারা বছর ব্যবহার করতে পারবেন কিভাবে রাখলে সারা বছর ভালো থাকবে সেই বিষয়ে আমি আপনাদের জানাবো।
১ কেজি বিট রুট ফল ছোট ছোট টুকরা করে কেটে ভালোভাবে রোদ্রে শুকিয়ে নিতে হবে। দুই থেকে তিন দিন রোদে শুখনো হয়ে গেলে যখন একদম শক্ত হয়ে মচমচা হয়ে যাবে তখন আপনারা এটি ভালোভাবে ব্লেন্ডার করে গুঁড়ো করে নিন। এমনভাবে বুড়ো করবেন যেন কোন দানা ভাব না থাকে। তাছাড়া আপনারা বিটরুট গুড়া করার পর চালনি দিয়ে চেলে দানাগুলো ফেলে দিতে পারেন। এবার একটি কাঁচের কোটায় ভালোভাবে ঢাকনা লাগিয়ে নরমাল ফ্রিজে সারা বছরের জন্য রেখে দিতে পারেন, তাছাড়া বাইরেও রাখলেও নষ্ট হবে না কিন্তু ফ্রিজে রাখলে আপনার নষ্ট হবার কোন টেনশন থাকবে না ।

বিটরুট খাওয়ার নিয়ম

বিটরুট আপনারা বিভিন্ন উপায়ে খেতে পারেন। কেউ ফল হিসেবে খায়, কেউ সবজি হিসেবে খায়, কেউ বিটরুট জুস করে খায় ইত্যাদি। বিভিন্ন উপায়ে এই বিটরুট খাওয়া যায়, কারণ বিটরুটে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন থাকার ফলে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দাঁড়াতে সাহায্য করে।যাদের শরীরে অভাব রয়েছে তারা অবশ্যই নিয়মিত বিটরুট খাবেন তাহলে অবশ্যই শরীরে রক্তের অভাব পূরণ হবে। কারণ ভিডিওতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, খনিজ, আইরন ইত্যাদি আরও বিভিন্ন উপকারী উপাদান এর মধ্যে বিদ্যামান রয়েছে। তাই আপনারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিটরুট খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

শেষ কথা

এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই, এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।বিটরুট দিয়ে রূপচর্চা এরকম আরো অনেক নতুন নতুন আর্টিকেল দেখতে চাইলে এই ওয়েবসাইটের সাথে থাকুন। আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং এই ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়ার সুযোগ করে দিন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url