জ্বর কেন হয় - জ্বর ভালো হওয়ার উপায় জেনে নিন
প্রিয় পাঠক,জ্বর কেন হয় জ্বর ভালো হওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে অনেক জায়গায়
খোঁজাখুঁজি করছেন। কিন্তু কোথাও জ্বর কেন হয় এর সদুত্তর খুঁজে
পাচ্ছেন না। আমি আর্টিকেলের মাধ্যমে স্টেপ বাই স্টেপ জ্বর কেন হয় ও জ্বর ভালো
হওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করব। আপনি যদি কাঙ্খিত প্রশ্নের উত্তর পেতে চান তাহলে
আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়তে থাকুন আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে
যাবেন।
প্রিয় পাঠক এই আর্টিকেলে জ্বর কেন হয় জ্বর থেকে ভালো হওয়ার উপায় কি এই
বিষয়েই আলোচনা করা হয় নাই আরো অনেক অনেক পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি
যদি সেগুলো বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণটা
পড়ুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ জ্বর কেন হয় - জ্বর ভালো হওয়ার উপায় জেনে নিন
ভূমিকা
এই আর্টিকেল এর মধ্যে আমি আলোচনা করেছি জ্বর কেন হয়, ভাইরাস জ্বর কমানোর
উপায়, বাচ্চার জ্বর কমানোর উপায়, জ্বরের দোয়া, জ্বর বারবার আসার কারণ
ইত্যাদি। এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
জ্বর কেন হয়
মানুষের শরীরে জ্বর আসে স্বাভাবিকভাবে সর্দি , ঠান্ডা , কাশির কারণে ছাড়াও জ্বর
আসতে পারে শরীরের কোন ভাইরাস বা কোন ব্যাকটেরিয়া আক্রমণের কারণে। আবার শরীরের
ভিতরে এমন কোন বড় রোগ দেখা দিয়েছে যার শুরুতে জ্বর এসে এই রোগের দিকে ইন্ডিকেট
করে।সেটা কোন ভাইরাস হতে পারে , ক্যান্সার হতে পারে , টাইফয়েড হতে পারে , ডেঙ্গু
হতে পারে , সমস্যা হতে পারে , লোপ্রেসারেরসমস্যা হতে পারে ইত্যাদি এগুলো কারনে
জোর হতে পারে.
ভাইরাস জ্বর কমানোর উপায়
- ভাইরাস জ্বর কমানোর উপায় অধিক জ্বর হলে, জ্বর কমাতে মাথায় পানি দিতে হবে, পরিষ্কার ন্যাকড়া ভিজিয়ে কপালে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে আবার পানিতে ভিজিয়ে একটু পরে কপালের উপরে রেখে দিতে হবে এভাবে করতে করতে তাপ কমে গেলে পানি দেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।
- আমরা তুলসির পাতা সকলেই চিনি এটাকে এন্টিবায়োটিক বলে ভাইরাস জ্বর দূর করতেখুব কার্যকর একটি ওষুধ যা ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করতে পারেন ৮ পিস তুলসী পাতা গরম পানিতে দিয়ে দিন , সাথে চা পাতা দিয়ে দিন , চা হয়ে গেলে ফ্লাসকে ভরে রেখে দিনে চারবার এক কাপ করে পরিমান মত মধু মিশিয়ে পান করুন।
- আদা, আদা আরো একটি এন্টিবায়োটিক যা শরীরের ভাইরাস কে দূরীভূত করণে অত্যন্ত কার্যকারী আদা, লং দিয়ে চা বানিয়ে পান করুন।
- ভাইরাস জ্বর দূরীকরণে লেবু অত্যন্ত উপকারী হালকা এক মগ গরম পানিতে একটি গোটা লেবু চিপে দিন দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে দিনের দুইবার পান করুন এতে ভাইরাস জ্বর কমে যাবে।
বাচ্চার জ্বর কমানোর উপায়
বাচ্চার জ্বর হলে বাচ্চার প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখুন। খুব বেশি জ্বর
আসলে বারবার মাথায় পানি ঢালুন এবং গা মুচ করে দিন এতে তাপমাত্রা কমে যাবে।
শরীরে তাপমাত্রা কমে গেলেই তাকে কিছু খাইয়ে দিন কারণ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে সে আর
কিছু খেতে চাইবে না. এজন্য যা খাই খাইয়ে দিন ।
ওষুধ হিসেবে তার জন্য টেস্টি করে চা বানান যেন স্বাদ ভালো হয় খেতে ভালো
লাগে . আট পিচ তুলসির পাতা ,একটু আদা কুচি তিন চার পিস লং, এক চিমটি লবণ এবং
চা পাতা দিয়ে চা বানিয়ে নিন এটা ফ্লাক্সে রাখুন. সাথে মধু এবং লেবু বা
কমলালেবুও দিতে পারেন হালকা গরম অবস্থায় তাকে একটু একটু করে পান করান এতে তার
ভাইরাস দূর হবে,শরীরের জ্বর কমে যাবে, শরীর ব্যথা দূর হয়ে যাবে, মুখে রুচিআসবে ।
এলোপ্যাথিক ওষুধ হিসাবে নাপা সিরাপ খাওয়াতে পারেন।
দ্রুত জ্বর কমানোর উপায়
দ্রুত জ্বর কমাতে আমাদের সব সময় সচেষ্ট থাকতে হবেঅর্থাৎমনকে দুর্বল করা যাবে না
, শুধু শুয়ে থাকা যাবে না,একটু হাটাহাটি করার চেষ্টা করতে হবে, সাধ্যমত খাওয়ার
চেষ্টা করতে হবে.
ঘরোয়া ওষুধ গরম পানিতে এক কোয়া রসুন , সাথে দুই পিস লং,দুই ফোটা কালিজিরার তেল
, চা পাতা দিয়ে চা বানিয়ে নিতে হবে এবার কাপ এবং মগে নিয়ে দুই চা চামচ মধু
ও এক পিস লেবু দিয়ে পান করতে হবে এতে দ্রুতজ্বর কমে যাবে ।
জ্বর কমানোর খাবার
- জ্বর কমানোর খাবার প্রোটিন ও আইরন সমৃদ্ধ খাবার আমাদের খাবার তালিকায় রাখতে হবে. যেসব খাদ্যের মধ্যে বেশি প্রোটিন রয়েছে সেগুলো হলো ডাল, বাদাম, মটরশুটি, গোস্ত খেতে হবে যাতে করে আমাদের শরীরকে দুর্বল করতে না পারে। জ্বরে খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম।
- জ্বরের জন্য আনারস অত্যন্ত উপকারী আনারসে ভাইরাস দূর করে, মুখে রুচি নিয়ে আসে , শরীরের ব্যথা দূর করে, জ্বর কমাতে সহায়তা করে, তাই জ্বরের রোগীক সিজিনাল ফল আনারস খাওয়া উচিত।
- কমলালেবু খুব উপকারী এতো জ্বরের জন্য এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা ভাইরাসকে দূর করে, মুখে রুচি নিয়ে আসে , শরীরের শক্তি যোগায়,জ্বরের রোগীর খাবারের তালিকায় কমলা লেবু রাখা উচিত
জ্বর কমানোর দোয়া
শরীরে খুব বেশি জ্বর আসলে আমরা সর্বপ্রথম আল্লাহতালার কাছে দোয়া করব যে, হে
আল্লাহ সুস্থতা অমূল্যবান সম্পদ তুমি আমাকে অসুস্থ করেছো তুমি পুনরায় আমাকে
পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করো। সাথে সাথে এই দোয়াটি পড়বো (কুলনা ইয়া না রুকুনি
বারদাউ অ সালামান আলা ইব্রাহিম) দ্রুতজর কমে যাবে।
জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় ২০২৩
জ্বর দ্রুত কমানোর ঘরোয়া উপায়
জ্বর আসলে সর্বপ্রথম যে কাজটি করবেন সেটা হলো যে কাজে কর্মে থাকুন না কেন সেগুলো
ছেড়ে দিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এতে সংক্রমনের হার কমে যাবে। এবং ঘুমানোর চেষ্টা
করতে হবে ঘুম আসলে ঘুমিয়ে নিতে হব।
জ্বরে সামান্য কুসুম পানিতে গোসল করার চেষ্টা করতে হবে গোসল করার সময় খেয়াল
রাখতে হবে যেন, আমার গোসলের সময় বেশি না লাগে অর্থাৎ দ্রুত গোসল করতে হবে।
ঠান্ডা পানিতে কোনভাবেই গোসল করা যাবে ন। গোসল করতে না চাইলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন
ন্যাকড়া বা স্পঞ্জ সারা শরীর মুছে নিতে হবে। এতে দ্রুত জ্বর কমে যাবে।
অতিরিক্ত জ্বর হলে বারবার মাথা পানি দিয়ে ধৌতো করতে হবে এবং একটি পরিষ্কার
পরিচ্ছন্ন ন্যাকড়াভিজিয়ে কপালে কিছুক্ষণ রাখতে হবে, দুই তিন মিনিট পর আবার
ঠান্ডা পানি দিয়ে ভিজিয়ে নেকড়া কপাল রাখতে হবে। পুরা শরীর ভিজা ন্যাকড়া দিয়ে
দিয়ে মুছে দিতে হবে। এভাবে কয়েকবার পানি মোচ করলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে
যাবে।
এক গ্লাস পানি গরম করুন তার সাথে এক চিমটি লবণ কিছু আদা কুচি দুই তিনটি লং এক
কোয়া রসুন আধা চা চামচা দিয়ে চা বানিয়ে নিন চা হয়ে গেলে একটু ঠান্ডা করে
নিন। হালকা গরম অবস্থায় তার সাথে ২ চা চামচ মধু একফোঁটা কালিজিরার তেল মিশিয়ে
পান করুন।এটা এন্টিভাইটিক এর কাজ করবে ও দ্রুত জ্বর কমাতে সহায়তা করবে।
বার বার জ্বর আসার কারণ
বারবার জ্বর আসার কারণবারবার জ্বর আসা কমন কারণ ঠান্ডা সর্দি কাশির কারণে
হওয়া।তাছাড়া ও শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটোরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমের কারণে হতে
পারে। আবার কখনো কখনো শরীরের মধ্যে যে কোন রোগের উপসর্গ হিসেবে জ্বর আসতে পারে।
শেষ কথা
এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জানতে পেরেছেন জ্বর কেন হয়, জ্বর কমানোর ঘরোয়া
উপায়, জ্বরের সময়ের খাবার, জ্বরের দোয়া। যদি আপনার আর্টিকেলটি ভালো লেগে
থাকে, যারা এই সম্পর্কে জানেনা দয়া করে তাদের কাছে শেয়ার করুন. নতুন নতুন
আর্টিকেল পেতে এই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।