কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

 

প্রিয় পাঠক, কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সংক্রান্ত বিষয়ে জানার জন্য, আপনি অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছেন কিন্তু কোথাও এর সদুত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না। আমি স্টেপ বাই স্টেপ জানানোর চেষ্টা করব কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সংক্রান্ত বিষয়ে। যদি আপনি কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে এই আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ ও গুরুত্ব সহকারে পড়তে থাকুন আপনি আপনার প্রশ্নের সদুত্তর পেয়ে যাবেন। 

প্রিয় পাঠক, এই আর্টিকেলে শুধু কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সংক্রান্ত বিষয়েই আলোচনা করা হয় নাই। আরো অনেক পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যদি আপনি বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন ।

পোস্ট সূচিপত্রঃ কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

ভূমিকা

প্রিয় পাঠক, এই আর্টিকেলে কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা , কাঁঠালি কলা,চাপা কলা, সাগরকলা খাওয়ার উপকারিতা , রাতে কলা খাওয়ার উপকারিতা, সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা, ও দুধ দিয়ে কলা খাওয়ার উপকারিতা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেছি।

কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

উপকারিতাঃ কলা খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে কলার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে ।যা আমাদের শরীরের পুষ্টির জন্য অনেক উপকারী ।যারা নিয়মিত কলা খান তারা এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং যাদের কলা খেতে মন চায় না তারাও এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
  • কলা শরীরে শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। 
  • কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গুলকোজ প্রুকটোজ এগুলো হজম করার দরকার হয়না রক্তের সাথে মিশে শরীরে শক্তি যোগায়।
  • হাট ভালো রাখতে সহায়তা করে।
  • কিডনি রোগীদের জন্য কলা অত্যন্ত উপকারী
  • কলা আলসার ও গ্যাস্ট্রিক রোগ কমাতে সহায়তা করে।
  • কলা হজম শক্তিতে সহায়তা করে।
  • কলার মধ্যে সব ধরনের ভিটামিন রয়েছে অর্থাৎ (এ থেকে জেড পর্যন্ত)
  • কলা যৌবন শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে।
  • কলা মানসিক চাপ কমাতে বিশেষভাবে সহায়তা করে।
  • ক্যান্সারের ঝুকি কমাতে কলা বিশেষভাবে সহায়তা করে।
  • যাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা তাদের কলা শরীরে রক্ত বৃদ্ধি করে বৃদ্ধি করে।
  • কলা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • কলা যাদের শরীরে ওজন কম ওজন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
  • কলাতাদের ওজন বেশি তাদের ওজন কমাতে সহায়তা করে।
অপকারিতাঃ কলা নিয়মিত পরিমাণমতো খেলে যেমন উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি অতিরিক্ত কলা খেলে উপকারিতাও রয়েছে। আসুন আমরা অপকারিত জেনে নিই ।
  • কলা বেশি খেলে মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে,
  • অতিরিক্ত কলা খাওয়ার কারণে দাঁত ক্ষয়ের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে ,কারণ কলা চকলেটের চেয়েও বেশি ভয়ংক্‌র।
  • অতিরিক্ত কলা খেলে শরীরে শরীরে অলসতা ভাব দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত কলা খেলে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • শ্বাসকষ্ট রোগের যাদের সমস্যা রয়েছে ,অতিরিক্ত কলা খেলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত কলা খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত কলা খাওয়ার কারণে ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে সুগার রয়েছে

সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা

প্রতিদিন সকালে নিয়মিত কলা খেলেশরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে তবে কলা খালি পেটে খাওয়া ঠিক নয় কিছু খেয়েকলা খেতে হবে।,শরীরের ওজন কমাতে কলা সাহায্য করে ।আমরা মনে করি কলা খেলেওজন বেড়ে যায়শুধুএমনটি ঠিক নয়।কলার মধ্যে সবধরনের পুষ্টিগণ রয়েছেওজন বাড়ানোর পুষ্টিগুণ রয়েছে।
ওজন কমানোরও পুষ্টিগুণ রয়েছে। কারণ কলা রক্ত চাপ ঠিক রাখতে সহায়তা করে, হৃদ রোগের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে, পানীর চাহিদাকে পুরাকরে। এছাড়াও কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরের মধ্যে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

রাতে কলা খাওয়ার উপকারিতা

রাতে কলা খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে রাতে কলা খেলে ঘুম ভালো হয়। কিন্তু অনেক ডাক্তারের মতে রাতে কলা না খাওয়াই ভালো। কারণ কলাপ্রচুর ভিটামিন জাতীয় একটি ফল, হজম হতে সময় লাগে। এবং যাদের ঠান্ডা সর্দি কাশি হাঁপানির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য রাতে একদমই কলা না খাওয়া উচিত। তবে যারা সকাল বিকাল ব্যায়াম করে তারা সকালে বিকালে বা সন্ধ্যার সময় কলা খেতে পারে। এতে তাদের শরীরের ক্লান্তি,বা ঘাটতি হয়েছে তা পুরা হয়ে যাবে ,ঘুম ও ভালো হবে।

দুধ কলা খাওয়ার উপকারিতা

দুধ কলা খাওয়ার অনেক উপকারিতা হয়েছে। কিন্তু দুধ কলা একসাথে খাওয়ার ব্যাপারেঅধিকাংশ ডাক্তার বিরূপ মত পোষণ করেছেন। দুধ আর কলা একসাথে খেলে ভালো ভাবে হজম হতে পারে না এমনকি হজম শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। কারণ দুধ প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন , এবং কলাওপ্রচুর পরিমাণ ভিটামিন তাই হজম হতে সমই লাগে।যাদের ঠান্ডা সমস্যা তাদের দুধ আর কলা একসাথে খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
কারণ এতে ঠান্ডার সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে। এবং যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে তারাও দুধ কলা একসাথে খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। তবে দুধ আর কলা আধা ঘন্টার ব্যবধানে অর্থাৎ আধা ঘন্টা আগে দুধ খেলেন আধাঘন্টা পরে কলা খেলেন এমন কোন সমস্যা হবে না।

কাঁঠালি কলা খাওয়ার উপকারিতা

কাঁঠালি কলা খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে কাঁঠালি কলার মধ্যে অনেক পুষ্টিগুণ ও ভিটামিন রয়েছে। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষয় পূরণ করে , শরীরে রক্ত বাড়াতে সহায়তা করে , শরীরে পুষ্টি যোগায় , পাকা কলা কষ্ট কাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। যাদের সের ওজন কম ,ওজন বাড়াতে সহায়তা করে, কিডনি সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে , এছাড়াও অনেক উপকারিতা রয়েছে।

চাপা কলার উপকারিতা

চাপা কলার অনেক উপকারিতা রয়েছে। কাঁঠালি কলার মত সব গুণ চাপা করার মধ্যে রয়েছে । চাপা কলা শরীরের ক্ষয় রোধ করে , শরীরের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। যাদের শরীরেরওজন কম তারা নিয়মিত কলা খেলে ওজন বেড়ে যাবে ।হার্ট ভালো রাখতে চাপা কলা অত্যন্ত উপকারী , যাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় ।
তাদের নিয়মিত চাপা কলা খেলে শক্তি রক্তস্বল্পতার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কলা বিশেষভাবে সহায়তা করে । যাদের কিডনির সমস্যা তাদের কিডনির সমস্যা দূর করতে কলা বিশেষভাবে সহায়তা করে

দিনে কয়টি কলা খাওয়া উচিত

প্রতিটা জিনিসের একটি নিয়ম বা পদ্ধতি রয়েছে ঠিক তেমনি কলা খাওয়ারও একটি নিয়ম রয়েছে। কলা নিয়ম অনুযায়ী খেলে শরীর উপকার হবে ,স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ।অন্যথায় উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে ।তাই আসুন আমরা নিয়মটা জেনে নিই। দিনে এক থেকে দুই পিস কলা খাওয়া উত্তম। এর চাইতে বেশি খাওয়া উচিত নয় কারণ কলা অনেক ভিটামিন ও পুষ্টিকর খাবার ।খাওয়ার পরে বলাটা যাতে করে ভালোভাবে হজম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে । তবেই শরীরের উপকার হবে।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক এই আর্টিকেলটি আপনি পড়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা ,কলা রাতে ,ও সকালে , খাওয়ার উপকারিতা।কাঠালি , চাপাও সাগর কলা খাওয়ার উপকারিতা ।এবং দিনে কয়টা কলা খাওয়া উচিত.এ সংক্রান্ত বিষয়ে। আর্টিকেলটা যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে অন্যদের কাছে শেয়ার করে দিন। আর নতুন নতুন আর্টিকেল পেতে এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url